Tag Archives: প্রফেসর আসহাব উদ্দিন আহমদ

বিস্মৃতির আস্তরণে ঢাকা পড়া এক মহান বিপ্লবি প্রফেসর আসহাব উদ্দিন আহমদ ।

আজ প্রফেসর আসহাব উদ্দীন আহমদের ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী!
image

বরাবরের মত থেকে গেলেন বিস্মৃতির আড়ালে! এই জ্ঞান তাপসের জীবন ও কর্ম নিয়ে বাঁশখালী এক্সপ্রেসের ক্ষুদ্র নিবেদন! তথ্য সংকলন ও গ্রন্থনায়
রহিম সৈকত

জীবনালেখ্য :
অধ্যাপক আসহাব উদ্দীন আহমদ ১৯১৪ সালে মার্চ মাসে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ।পিতা সফর আলী মুনশী মাতা নাছিমা খাতুন ।ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক এরা হল নছিমন আরা এপি ওএনতেজার উদ্দিন আহমদ জন্টু ।অসম্ভব মেধা মননের অধিকারী এই মহান বিদ্বান আজীবন করে গেছেন জ্ঞানের চাষাবাদ ।এই সংক্ষেপিত জীবনালেখ্যে তার মত ব্যক্তির বর্ণনা দেয়া সম্ভবপর নয় ।সুপ্রিয় পাঠক এই মহান জ্ঞান তাপসের মোটামুটি একটা বর্ণনা পাওয়া যায় তারই ছাত্র বাঁশখালীর আরেক নক্ষত্র স্যার ড আবদুল করিম প্রণিত “বাঁশখালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য”গ্রন্থে ।আমি এই লেখায় সেই গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি অকাতরে ।

শিক্ষাজীবন :
ছোটকাল থেকেই তিনি প্রতিভার সাক্ষর রাখেন ।সামাজিক সচেতনতা ফুটে উঠে বাল্যকালে, গড়ে তোলেন সাধনপুর পল্লী মঙ্গল সমিতি পরবর্তীতে এ সমিতি হতে পাঠাগার স্থাপন করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন এপ্রান্ত হতে ওপ্রান্ত ।স্থানীয় মকতব ও মাইনর স্কুলে পাঠ্য জীবন শুরু ১৯৩২ সালে বানীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন ১৯৩৪ সালে । শিক্ষা বৃত্তি সহ প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন চট্টগ্রাম কলেজ হতে ।একই কলেজ হতে ১৯৩৬ সালে বিএ পাশ করেন ।১৯৩৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ২য় বিভাগে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন ।

পেশা জীবন :
জীবনের পুরোটায় অতিবাহিত করেন শিক্ষকতা আর সক্রিয় রাজনীতিতে ।শিক্ষকতা জীবনে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ,চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ, লাকসাম নবাব ফয়েজুন্নেসা কলেজ,ফেনি কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যাপনায় নিয়োজিত ছিলেন ।ঐ সময় দি টিচার নামে এক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন ।

রাজনৈতিক জীবন :
সমাজের বিত্তশালীদের শোষণ দেখেছিলেন খুব কাছ থেকে ।মানব দরদি এই মানুষ আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে বেঁছে নেন শ্রেণী বৈষম্য হীন সমাজ গড়ার নিষিদ্ধ রাজনীতি সমাজ তন্ত্র।নিদারুণ কষ্ট, জেল-জুলুম, নির্যাতন কোনটাই তাকেই তার রাজনৈতিক আদর্শ ,বিশ্বাস হতে টলাতে পারেনি । মাথায় হুলিয়া নিয়ে কখনও কৃষকের বেশে কখনও কামলার বেশে শাসক চক্ষুকে ফাকি দিতে হত ।আত্মগোপন থাকা কালে অনাহারে অর্ধাহারে পার করেছেন ।করে গেছেন মানবেতর জীবন যাপন ।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের লালিত আদর্শ হতে এক চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি ।
তিনি ১৯৫৪সালে বাঁশখালী, চট্টগ্রাম থেকে এমএলএ(প্রাদেশিক সংসদ সদস্য) নির্বাচিত হন হক-ভাসানী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট থেকে ।১৯৫৭এ ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।১৯৬৭ এ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৭১এ সক্রিয় মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বাঁশখালী হতে মুক্তিযুদ্ধের কর্মকান্ডের সূচনা ও সংগঠিত করেন ।মুক্তিযুদ্ধত্তোর কালে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এ পরিণত হয়, তিনি সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রিয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশ চাষী মুক্তি সমিতির কেন্দ্রিয় সভাপতি নির্বাচিত হন ।১৯৮০ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গণচীন সফর ।এ বছরের শেষের দিকে সক্রিয় রাজনীতি হতে অবসর নেন ।পরবর্তীতে বাংলাদেশ লেখক শিবির নামক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন ।আমৃত্যু সমাজতান্ত্রিক ধ্যান ধারণার উপর তিনি তার লেখনি চালিয়ে গেছেন ।১৯৯৪ সালের ২৮শে মে ৮০ বছর বয়সে ঢাকা সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।চির নিদ্রায় শায়িত আছেন বাঁশখালী কলেজ মসজিদের পাশে কৃষ্ণচুড়ার ছায়ায় ।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
১৯৪৯ :বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর । ১৯৫০:ধার ,জান ও মান ।
১৯৬১:বন্দে ভোটারম(Bande Votaram)।
হাতের পাঁচ আঙ্গুল ।
ইন্দিরাদি সমীপেষু ।
১৯৬৮:সের আনা টাকা মাত্র ।
১৯৭০:আওয়ামী লীগের মীর জাফরী ঐতিহ্য ।
১৯৭১:দাড়ি সমাচার ।
বিপ্লব বনাব অতি বিপ্লব ।
ভাতের বাংলা কাপড়ের বাংলা ।
বাঁশ সমাচার ।
দ্বিপদ বনাম চতুস্পদ ।
পথ চলিতে ।
মীর জাফরী ঐতিহ্য ।
ইন্দিরা গান্ধীর বিচার চাই ।
আমার সাহিত্য জীবন ।
ডেনজার সিগন্যাল ।
উজান স্রোতে জীবনের ভেলা ।
ঘুষ ।
দাম শাসন দেশ শাসন ।
১৯৯২ :ভূমিহীন কৃষক কড়িহীন লেখক।
১৯৯৪:আসহাব উদ্দীন আহমদের সেরা রম্য রচনা সংগ্রহ ।
আসহাব উদ্দীন আহমদের রচনা সংগ্রহ ১ম,২য়,৩য় ও ৪র্থ খন্ড ।

পুরস্কার :
একুশে পদক (মরনোত্তর)
বৌদ্ধ একাডেমি পদক।
অনুপম পদক ।
চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ পদক ।
আইনজীবি সমিতি পদক ।
বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র পদক,চট্টগ্রাম ।

Advertisements